Thursday, September 25, 2025

কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট লোকসভার মধ্যে যে বিধানসভা আসন গুলি ২০২৬ শে বিজেপির জয়ের জায়গায় আছে।

দেবযানী সাহা,নদীয়া নিউজ, নদীয়া - ২০২৬ শে কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট লোকসভার মধ্যে যে আসন গুলি বিজেপি জিততে পারে  এবং যে আসন গুলিতে লড়াই দিতে পারবে তৃণমূলের সঙ্গে সেই আসন গুলি নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। কিন্তু এর মাঝে নদিয়া উত্তর ও দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার মধ্যে নেতা এবং কর্মীদের মধ্যে যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে সেটার মোকাবেলা করা রাজ্য বিজেপির কাছে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
নদীয়া উত্তর জেলা কমিটি গঠন নিয়ে প্রকাশ্যে দলের বিরোধ দেখা যাচ্ছে। জেলা সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছেন পুরানো কর্মীদের কাছে। তার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ রাজ্যে জমা পড়েছে সেটা কল্পনার অতীত। নদীয়া দক্ষিণ জেলা সভাপতি একজন মহিলা। সেই অপর্ণা নন্দীর বিরুদ্ধে  অতটা অভিযোগ না থাকলেও তিনিও শান্তিতে নেই তার জেলা কমিটি নিয়ে। 
 শাসক দল তৃণমূলের জেলা সভাপতি  তার বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। এককথায় বলতে গেলে শাসক এবং বিরোধীদল জেলা সভাপতি নিয়ে বড় চিন্তায় আছেন।  সাংগঠনিকভাবে দুই দলই  সামান্য হলেও এলোমেলো অবস্থায় আছে। 

 এমতাবস্থায় বিধানসভা ভোট হলে  কৃষ্ণনগর লোকসভার মধ্যে যে সাতটি বিধানসভা আছে তার মধ্যে তিনটি বিজেপির জয় সম্ভাবনা আছে প্রবলভাবে। তৃণমূলের প্রবলভাবে জয়ের সম্ভাবনা আছে দুটি আসনে। আর দুটি আসনে দুই দল যে কেউ জিততে পারে। 
৭৮ তেহট্ট বিধান সভা , ৭৯ পলাশীপাড়া বিধানসভা, ৮০ কালিগঞ্জ বিধানসভা, ৮১ নাকাশিপাড়া বিধানস, ৮২ চাপড়া বিধানসভা, ৮৩ কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা, ৮৫ কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভা। 
১)  কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভায় বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা ৭৩ শতাংশ। এখানে বিজেপির মুকুল রায় জয়লাভ করেছিলেন ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে। তিনি মোট ভোট পেয়েছিলেন ১লক্ষ ৯ হাজার ৩৫৭ ভোট।
 আর তৃণমূলের কৌশানী মুখার্জী পেয়েছিলেন ৩৭% ভোট। তিনি মোট ভোট পেয়েছিলেন ৭৪ হাজার ২৭৮ ভোট।
 বিজেপি এখানে প্রাথী করতে পারেন গত লোকসভার প্রাথী রানীমা অমৃতা রায় কে। প্রায় ৬৮% সাধারণ মানুষ ও কর্মীরা তাকে এখানে প্রাথী হিসাবে দেখতে চাইছে। তিনি কর্মীদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন সভা মিটিং মিছিলে অংশগ্রহণ করেছেন। দল হয়তো তাকে প্রাথী করার কথা ভাবছে। তবে এখানে একজন রাজ্য নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। তিনিও এখানে প্রাথী হওয়ার দৌড়ে আছেন। তবে এই বিধান সভার মানুষ স্থানীয় কাউকে প্রাথী হিসেবে দেখতে চাইছে। 
 চঞ্চল বিশ্বাসের নামও শোনা যাচ্ছে দৌড়ে তিনিও আছেন। 
 তৃণমূল এখানে হয়তো আর কৌশানী মুখার্জীকে প্রার্থী করবেন না। সে ক্ষেত্রে কোন এক যুবনেতার নাম শোনা যাচ্ছে। 
২) নাকাশিপাড়া বিধানসভায় তৃণমূলের জয়ের সম্ভবনা ৫২%। ২০২১ সালে তৃণমূল এখানে ৫০% ভোট পেয়েছিল। বিজেপি পেয়েছিল ৪০% ভোট।
 তৃণমূলের কল্লোল খান পেয়েছিলেন  ১লক্ষ ৪ হাজার ৮১২ ভোট। আর বিজেপির শান্তনুদেব পেয়েছিলেন ৮৩ হাজার ৫৪১ ভোট। 
এখানে তৃণমূল আপাতত দৃষ্টিতে এগিয়ে থাকলেও SIR হলে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ভোট  কমে যেতে পারে। অপর দিকে CAA এপ্লিকেশন এর তারিখ কেন্দ্র সরকার ১০ বছর বৃদ্ধি করার কারণে মতুয়া উদ্বাস্তু তপশিলি ভোট ব্যাংক বিজেপি ঝুলিতে প্রায় পুরোটাই পরতে পারে।  সেক্ষেত্রে এই বিধানসভা  যে কেউ জিততে পারে। 
 এখানে শাসকদল প্রার্থী হিসেবে কল্লোল খান কে পুনরায় প্রার্থী নাও করতে পারেন। কল্লোল খানের শারীরিক পরিস্থিতি  বিচার করে হয়তো অন্য কাউকে এখানে প্রার্থী করার সম্ভাবনা চলছে। সে ক্ষেত্রে অভিষেক ঘনিষ্ঠ কনিষ্ক চক্রবর্তী এর নাম শোনা যাচ্ছে।  জনমত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে কনিষ্ক চক্রবর্তীকে প্রায় ৫২ শতাংশ মানুষ তাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন। 
 অপরদিকে বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে প্রথমেই যে নামটি ভেসে উঠছেন তিনি হলেন শিক্ষক অনুপ কুমার মন্ডল এর নাম। তিনি পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা। অপরদিকে তিনি নাকাশিপাড়া বিধানসভা জুড়ে যেভাবে সিএ এবংSIR নিয়ে আলোচনা শিবির করছেন তাতে তার জনপ্রিয়তা সকলের থেকে এগিয়ে। প্রায় ৫২ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা তাকে এখান থেকে এবার প্রার্থী হিসেবে চাইছে। অপরদিকে তিনি এই বিধানসভা থেকে ২০১৬ সালে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন।
 অপরদিকে যে দ্বিতীয় স্থানে যে নামটি উঠে এসেছে তিনি হলেন গতবারের প্রার্থী  শান্তনু দেব। প্রায় ২৮ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা তাকে প্রার্থী হিসেবে এখান থেকে দেখতে চাইছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কর্মীদের অভিযোগ তিনি ভোট পরবর্তী সময়ে কর্মীদের সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখেননি।
 শুধু তাই নয় কর্মীরা আরো অভিযোগ করেছে, শান্তনু দে ভোটে যে টাকা পেয়েছিলেন দলের তরফ থেকে সেই টাকা তিনি পুরোটা খরচ করেন নি। অনেক কার্যকর্তাই এই অভিযোগটা তার বিরুদ্ধে তুলেছেন। 
 তৃতীয় স্থানে প্রার্থী হিসেবে ১১ শতাংশ মানুষ দীনেশ বিশ্বাস কে চাইছেন। বাকি আরো কয়েকটি নাম শোনা।
৩) পলাশীপাড়া বিধানসভায় তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা ৬০%। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে এখান থেকে তৃণমূল ৫৪% ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছিল। আর বিজেপি পেয়েছিল ২৯% ভোট।
 তৃণমূলের মানিক ভট্টাচার্য পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ১০ হাজার ২৭৪ ভোট। 
 আর বিজেপির বিভাস চন্দ্র মন্ডল পেয়েছিলেন  ৫৮ হাজার ৯৩৮ ভোট।
 সিপিএমের এস এম শাদী পেয়েছিলেন  ২৬ হাজার ২২৮ ভোট। 
 শাসক দল তৃণমূল হয়তো এখান থেকে মানিক ভট্টাচার্যকে আর প্রার্থী করবে না। সে ক্ষেত্রে নতুন কাউকে প্রার্থী করতে পারে। একজন জেলা পরিষদ সদস্যকে  এখানে প্রার্থী করার কথাবার্তা চলছে।
বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে প্রথমে যে নামটি ভেসে উঠছে তিনি হলেন সঙ্গীতা ঘোষ।জনমত সমীক্ষায় প্রায় ৫৩ শতাংশ মানুষ তাকে প্রার্থী হিসেবে এখান থেকে দেখতে চাইছে। এই বিধানসভা মানুষের দাবি এখান থেকে কোন মহিলাকে প্রার্থী করা হোক। সে ক্ষেত্রে সঙ্গীতা ঘোষের নামটা প্রথমেই থাকবে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে। 
 দ্বিতীয়ত প্রার্থী দৌড়ে রয়েছেন বিভাস চন্দ্র মন্ডল এর নাম। প্রায় ২৮ শতাংশ মানুষ তাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন। কিন্তু বয়স জনিত কারণে তাকে হয়তো দল প্রার্থী নাও করতে পারে।

৪) কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভায় বিজেপি জয়ের সম্ভবনা ৫৬%। লোকসভা ভোটে বিজেপি এখানে ভালো ফল করেছে। কিন্তু ২০২১ এখানে বিজেপি জিততে পারেনি।  তৃণমূল এখানে ৪৭% ভোট পেয়েছিল। তৃণমূলের উজ্জ্বল বিশ্বাস ৯১ হাজার ৭৩৮ ভোট পেয়েছিলেন। বিজেপি এখানে ৪২% ভোট পেয়েছিল। বিজেপির মহাদেশ সরকার তিনি মোট  ৮২৪৩৩ ভোট পেয়েছিলেন।
 সিপিএমের সুমিত বিশ্বাস পেয়েছিলেন ১৫৬০৬ ভোট।
 শাসক দল তৃণমূলের প্রার্থী হওয়া দৌড়ে সবার উপরেই থাকবে উজ্জ্বল বিশ্বাসের নাম। 
 বিজেপি প্রার্থী দৌড়ে মহাদেব সরকারের নাম। প্রায় ৪৮ শতাংশ মানুষ চাইছেন তিনি এখান থেকে প্রার্থী হন। দ্বিতীয় যে নামটি ভেসে আসছেন তিনি হলেন প্রদীপ ঘোষ। তাকে ৪২ শতাংশ কর্মী ও সমর্থকরা চাইছেন যে তিনি এখান থেকে প্রার্থী হোক।
৫) তেহট্ট বিধানসভায় তৃণমূলের জয় সম্ভাবনা  ৫২%। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল এখান থেকে ৪৫% ভোট পেয়েছিল। তৃণমূলের তাপস কুমার সাহা  ৯৭৮৪৮ ভোট পেয়েছিলেন।
 বিজেপি এখানে ৪২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।
 বিজেপির জেলার তৎকালীন  সভাপতি আশুতোষ পাল পেয়েছিলেন  ৯০৯৩৩ ভোট ।
 তৃণমূল প্রার্থীর দৌড়ে  আপাতত কারো নাম জানা যাচ্ছে না। যেহেতু এখানকার বিধায়ক তাপস কুমার সাহা  মারা গেছেন। হয়তো তার পরিবার থেকে কাউকে প্রার্থী করা হতে পারে এখানে।
 বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে প্রথমেই থাকবে আশুতোষ পালের নাম। তবে একজন ডাক্তারবাবু প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। 
 এছাড়া নাম উঠে এসেছে মতুয়া নেতা অনিমেষ বালার। তিনি শান্তনু ঠাকুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

৬) চাপড়া বিধানসভায় তৃণমূলের জয় সম্ভাবনা ৫১%। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল এখান থেকে মাত্র ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এই বিধানসভাটির মুখে লড়াই হওয়ার কারণে তৃণমূল এত কম ভোট পেয়েছিল। রূকবানুর রহমান ৭৩৮৩৩ ভোট পেয়েছিল।
 বিজেপির কল্যাণ কুমার নন্দী পেয়েছিলেন  ৫৮ হাজার ১৬৮ ভোট। 
 নির্দল প্রার্থী জাবের শেখ  পেয়েছিলেন ৬১ হাজার ৭৪১ ভোট। 
 এখানে এখানে শাসক দল তৃণমূল প্রার্থীর দৌড়ে প্রথমেই থাকবেন  রুকবানুর রহমানের নাম। প্রায় ৭৫% মানুষ চাইছে তিনি এখান থেকে প্রার্থী হন। 
 বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে প্রথমেই নাম আছে কল্যাণ নন্দীর। যেহেতু তিনি গতবারের প্রার্থী ছিলেন। তার আবার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এছাড়া নাম উঠে এসেছে চুন্নি চক্রবর্তী, প্রকাশ অধিকারী ও পরিতোষ সরকারের।

৭) কালিগঞ্জ বিধানসভায় তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা ৭৫%। উপনির্বাচনের তৃণমূল এখানে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে SIR হলে জয়ের মার্জিন অনেকটাই কমতে পারে তৃণমূলের। 
 তৃণমূল এখানে উপনির্বাচনের ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।
 তৃণমূলের আলিফা আহমেদ তিনি ১ লক্ষ ২১৭৯ ভোট পেয়েছিল। 
 বিজেপির  আশীষ কুমার ভোট ৫২ হাজার ৭১০ ভোট পেয়েছিল। মাত্র ২৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বিজেপি এখানে। 
 এখানে তৃণমূল প্রার্থীর দৌড়ে প্রথমেই থাকবে আলীফা আহমেদের নাম। প্রায় ৮৫% তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা তাকেই প্রার্থী হিসেবে চাইছে।
 বিজেপি প্রার্থীদের প্রথমেই থাকছে  আশীষ কুমার ঘোষের নাম। একজন জেলা সম্পাদকের নামও শোনা যাচ্ছে প্রার্থীর দৌড়ে তিনি আছেন।

রানাঘাট লোকসভার মধ্যে যে সাতটি বিধানসভা আছে তারমধ্যে তে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা চারটি আসনে। তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা দুটি আসনে। একটি আসনে শাসক বিরোধী যে কেউ জিততে পারে। 
 নবদ্বীপ বিধানসভা, শান্তিপুর বিধানসভা, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম বিধানসভা, রানাঘাট উত্তর পূর্ব বিধানসভা, রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা, চাকদা বিধানসভা।

 ১) আমাদের জনমত সমীক্ষায় -
রানাঘাট উত্তর পশ্চিম বিধানসভা বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা আছে ৬৮%। আর এখানে তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ২০২১এ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এখান থেকে ৫০.৯৪ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতেছিল। আর তৃণমূল পেয়েছিল ৪০.৫৫% ভোট। দশ শতাংশ ভোটের ব্যবধান আছে এখানে বিজেপির সাথে তৃণমূল এর। 
বিজেপির পার্থ সারথী চ্যাটার্জী তিনি পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ১২ হাজার ৪১৩ ভোট। 
তৃণমূলের শঙ্কর সিংহ পেয়েছিলেন ৮৯ হাজার ৫০৩ ভোট। 
বিজেপি এখানে হয়তো পুনরায় পার্থ সারথী চ্যাটার্জী কে প্রাথী করবে। তবে নতুন এক যুব নেতার নামও শোনা যাচ্ছে। পার্থ বাবু প্রাক্তন জেলা সভাপতি ও MP জগন্নাথ সরকার ঘনিষ্ঠ। তাই তার টিকিট এক প্রকার নিশ্চিত। কিন্তু সূত্রের খবর বিজেপির অনেক বিধায়ক এবার টিকিট নাও পেতে পারেন। আবার জায়গা পরিবর্তন হতে পারে অনেক বিধায়ক এর।
তৃণমূল হয়তো পুনরায় শঙ্কর সিংহ কে প্রাথী করবে। কিন্তু সূত্র মারফাত জানা যাচ্ছে তৃণমূল হয়তো শঙ্কর সিংহের ছেলে কে দার করাতে পারেন। 

২) রানাঘাট দক্ষিণ বিধান সভায় বিজেপির সম্ভবনা আছে ৫৫%। যদিও উপনির্বাচনে তৃণমূল জয় লাভ করেছে। ২০২১ এই আসন বিজেপির দখলে ছিল। ২০২৬ শে আবার বিজেপির জয়ের পেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। 
এখানে উপনির্বাচনে তৃণমূলের মুকুটমনি অধিকারী ৫৫.০৮% ভোট পেয়ে জয় লাভ করেছিলেন। তিনি মোট ভোট পেয়েছিলেন ১লক্ষ ১৩ হাজার ৫৩৩ ভোট।  
বিজেপির মনোজ কুমার বিশ্বাস পেয়েছিলেন ৭৪ হাজার ৪৮৫ ভোট। তিনি মোট পোলিং ভোটের ৩৬. ১৩% ভোট পেয়েছিলেন। 
আর সিপিএম এর অরিন্দম বিশ্বাস পেয়েছিলেন ১৩ হাজার ০৮২ ভোট। 
শাসক দল তৃণমূল হয়তো পুনরায় মুকুটমনি অধিকারীকে প্রাথী করবে। 
বিজেপির প্রাথী হওয়ার দৌড়ে অনেক এর নাম শোনা যাচ্ছে। 
তবে এখানে কোনো বহিরাগত প্রাথী মেনে নেবে না বিজেপি কর্মীরা। সেক্ষেত্রে মনোজ বিশ্বাস কে আর এখানে প্রাথী করা হবে না এক প্রকার নিশ্চিত। 
দৌড়ে বেশ কয়েকটি নাম ভেসে উঠেছে। প্রথমেই যে নাম শোনা যাচ্ছে তিনি হলেন অসিত বরন মন্ডল।জনমত সমীক্ষায় প্রায় ৩৯% মানুষ তাকে এখানে প্রাথী হিসাবে চাইছেন। এই বিধানসভার বেশিরভাগ মন্ডল সভাপতিদেরও পছন্দের প্রাথী হলেন অসিত বাবু। 
তারপর যে নামটি প্রবল ভাবে উঠে এসেছে তিনি হলেন সুদীপ দাস। প্রায় ৩৮% মানুষ তাকে প্রাথী হিসাবে চাইছেন। কিছু দিন হলো তিনি তার ভোট এই বিধানসভায় স্থানান্তর করেছেন।  
 তিনি রাজ্য বিজেপি তপশিলি মোর্চার সভাপতি ও ভারত সরকারের ডক্টর আম্বেদকর ফাউন্ডেশনের সদস্য।
তিনি বিভিন্ন প্রোগ্রাম করছেন বিধানসভা জুড়ে। কর্মীদের নিয়ে সম্পর্ক অভিযান করছেন বিভিন্ন অঞ্চলে। 
আরেক যুব নেতার নামও শোনা যাচ্ছে। তিনিও দৌড়ে আছেন। 

৩) রানাঘাট উত্তর পূর্ব বিধানসভায় বিজেপির জয়ের সম্ভবনা ৭২%। ২০২১ শে বিধানসভা নির্বাচনে এখানে বিজেপি ৫৪.৩৯% ভোট পেয়ে জয় লাভ করেছিল। বিজেপির অসীম কুমার বিশ্বাস পেয়েছিলেন ১লক্ষ ১৬ হাজার ৭৮৫ ভোট। 
আর তৃণমূল এর সমীর কুমার পোদ্দার পেয়েছিলেন ৩৯.৫৯% ভোট। তিনি মোট ভোট পেয়েছিলেন ৮৫ হাজার ৪ ভোট। 
এখানে বিজেপির অসীম কুমার বিশ্বাস এর প্রাথী হওয়ার সম্ভবনা প্রবল। প্রায় ৭২% মানুষ তাকে প্রাথী হিসাবে চাইছেন। 
অপর দিকে তৃণমূল এখানে সমীর কুমার পোদ্দার কে পুনরায় প্রাথী করতে পারেন। তবে একজন জেলা পরিষদ সদস্য এর নাম শোনা যাচ্ছে। তিনিও দৌড়ে আছেন।
৪) নবদ্বীপ বিধানসভায় বিজেপির জয়ের সম্ভবনা ৫১%। যদিও উপ নির্বাচনে তৃণমূল জয় লাভ করেছিল এখানে। বর্তমানে তৃণমূলের বিধায়ক এখানে। পুন্দরিক্ষ সাহা তিনি এখানে ৪৮.৫২% ভোট পেয়েছিলেন। তিনি মোট ১লক্ষ ২ হাজার ১৭০ ভোট পেয়েছিলেন। 
বিজেপির সিদ্ধার্থ নস্কর পেয়েছিলেন ৩৯.৭০% ভোট। তিনি মোট ৮৩ হাজার ৫৯৯ ভোট পেয়েছিলেন। 
সিপিএম এর সর্ণেন্দু সিংহ পেয়েছিলেন ৮. ৮% ভোট। 
তৃণমূল এখানে পুনরায় পুন্দরিক্ষ সাহা কে প্রাথী করবে। বিজেপি এখানে হয়তো সিদ্ধার্থ নস্কর কে পুনরায় প্রাথী করতে পারেন। তবে জনমত সমীক্ষায় ৪১% মানুষ তাকে প্রাথী হিসাবে এখানে চাইছেন। গৌতম পালের নাম উঠে এসেছে। ৩৭ শতাংশ মানুষ তাকে পুনরায় প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছে। কারন তিনি ২০১৬ সালের প্রার্থী ছিলেন এই বিধানসভায়। তবে আরো কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। 
৫) কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভায় বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা ৫৮%। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে এখান থেকে বিজেপি ৫১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।
 বিজেপির আশীষ কুমার বিশ্বাস পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ১৭ হাজার ৬৬৮ ভোট। 
 তৃণমূল এখানে পেয়েছিল ৪২ শতাংশ ভোট। ডক্টর তাপস মন্ডল পেয়েছিলেন  ৯৬ হাজার ৩৯১ ভোট। 
 সিপিএমের ঝুনু বৈদ্য ১০৯১৩ ভোট। 
  তৃণমূল এখান থেকে পুনরায় ডক্টর তাপস মন্ডলকে প্রার্থী  করতে পারেন। তবে একজন মহিলা প্রার্থীর নামও শোনা যাচ্ছে তৃণমূল তাকে প্রার্থী করতে পারে। 
 বিজেপি প্রার্থীর ধরে প্রথমেই যে নামটি উঠে আসছেন তিনি হল সুজিত কুমার বিশ্বাস। প্রায় ৫৩ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা তাকে এখানে প্রার্থী হিসেবে চাইছে। সুজিত কুমার বিশ্বাস নদীয়া জেলার প্রাক্তন সভাপতির ছেলে। তিনি বিজেপি পরিবারের সন্তান। মতুয়া মহলে তার পরিচিতি প্রচুর। 
 দ্বিতীয়  স্থানে প্রার্থী হিসেবে নাম থাকছেন এখানকার বিধায়ক আশীষ কুমার বিশ্বাসের। প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ তাকে এখানে পুনরায় প্রার্থী হিসেবে চাইছে। বাকি আর কয়েকটা নাম শোনা যাচ্ছে তাতে দৌড়ে তারাও আছে। 
 ৬) শান্তিপুর বিধানসভায় তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৮%। উপনির্বাচনে এখানে তৃণমূল ৫৪. ৮৯% ভোট পেয়েছিল।
 তৃণমূলের ব্রজ কৃষ্ণ গোস্বামী ১ লক্ষ ১১ হাজার ১৮৯ ভোট পেয়েছিল । 
 আর বিজেপির নিরঞ্জন বিশ্বাস  পেয়েছিলেন ৪৭ হাজার  ১৬৭ ভোট। 
 শাসক দল তৃণমূল ২০২৬-এ পুনরায় ব্রজ কৃষ্ণ গোস্বামী কে প্রার্থী করবে।
 বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে  অনেকেই আছেন। সংসদ জগন্নাথ সরকার ঘনিষ্ঠ  এক ব্যবসায়ীর নাম প্রবলভাবে উঠে এসেছে প্রার্থীর দৌড়ে। তবে এখান থেকে নিরঞ্জন বিশ্বাসকে আর পুনরায় প্রার্থী করা হবে না এটা এক প্রকার নিশ্চিত। 
৭) চাকদা বিধানসভায় বিজেপির জয় সম্ভাবনা ৬৫ শতাংশ। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে এখান থেকে বিজেপি ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। বিজেপির বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষ পেয়েছিলেন  ৯৯ হাজার ৩৬৮ ভোট। 
 তৃণমূল এখানে ভোট পেয়েছিল ৪১%। তৃণমূলের শুভঙ্কর সিংহ  ( যীশু ) তিনি ভোট পেয়েছিলেন ৮৬ হাজার  ৬৬৮ ভোট।  
 বিজেপি প্রার্থী দৌড়ে প্রথমেই থাকছে বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষের নাম। ৬৪ শতাংশ বিজিবি কর্মী সমর্থকরা তাকেই পুনরায় প্রার্থী হিসেবে চাইছেন।  বাকি দুই একজনের নাম শোনা গেলেও তারা কেউ শেষ মুহূর্তে টিকতে পারবে না। 
 তৃণমূল প্রার্থী দৌড়ে পুনরায় যীশুকে প্রার্থী করা হতে পারে। অভিষেক ঘনিষ্ঠ কারো নাম শোনা যাচ্ছে। 
 এখন দেখার বিষয় শাসক এবং বিরোধী দল কাদের কাদের প্রার্থী করে। তবে আমাদের জনমত সমীক্ষায় যে তথ্য উঠে এসেছে বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী আমরা সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরলাম। 
তবে SIR হলে ও রানিং বিধায়কদের টিকিট না দিলে তখনই পরিসংখ্যান কিছুটা কর্মীল হতে পারে।





Thursday, September 18, 2025

মতুয়া, উদ্বাস্তু শরণার্থীদের ভয়ের কোনো কারন নেই তারা সকলেই ভারতের নাগরিকত্ব পাবে : রানী মা।

অভিরূপ সাহা, নদীয়া নিউস, কৃষ্ণনগর -- নাকাশি পাড়া বিধানসভায় SIR ও CAA  নিয়ে একটি আলোচনা শিবির থেকে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ীর রানী মা অমৃতা রায় বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, মতুয়া, উদ্বাস্তু, শরণার্থীদের ভয়ের কোনো কারন নেই তারা সকলেই ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন। CAA এর আবেদন করার জন্যে আগে সময় দেওয়া হয়েছিলো ৩১ শে ডিসেম্বর ২০১৪। কিন্তু ভারত সরকার মতুয়া উদ্বাস্তু শরণার্থীদের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেই সময়সীমা দশ বছর বৃদ্ধি করে দিয়েছেন।  
তাইতো প্রায় সকলেই CAA এর আবেদন করতে পারবেন। আমাদের রাজবাড়ীর তরফ থেকে ভারত সরকার সহ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজী কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি। আমাদের পরিবার সর্বদা পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য লড়াই করেছেন । আমার ঠাকুমা শাশুড়ি জ্যোতির্ময়ী দেবী  নদীয়া জেলাকে ভারতের অন্তর্ভুক্তি করতে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে যোগ্য সহায়তা করেছিলেন। রাজ পরিবারের রানী মা হিসেবে  আমার জেলার প্রতিটা মতুয়া ,উদ্বাস্তু শরণার্থী  মানুষ যেভাবে নাগরিকত্ব পেতে পারেন আমরা তার যথাযথ ব্যবস্থা করব।

সেদিনের আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন রানী মা অমৃতা রায় সহ উদ্বাস্তু আন্দোলনের নেতৃত্ব  অনুপ কুমার মন্ডল, রাজ্যে নেতৃত্ব বঙ্কিম মন্ডল, প্রকাশ অধিকারী,  প্রদীপ ঘোষ, সঙ্গিতা ঘোষ, বিশ্বজিৎ সরকার , গৌতম বিশ্বাস , মহিতোষ ভৌমিক সহ একাধিক নেতৃত্ব বৃন্দ।
এই আলোচনা সভার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন শিক্ষক অনুপ কুমার মন্ডল। তিনি নিখিল ভারত বাঙালি সমন্বয় সমিতির নদিয়া উত্তর জেলা সভাপতি। 



 

Saturday, August 2, 2025

২০২৬ এ করিমপুর বিধানসভায় বিজেপির লড়াই শক্ত, তবে বিজেপি যদি সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করতে পারে তাহলে সামনাসামনি লড়াই হবে।

পার্থসারথী দত্ত, নদিয়া নিউজ, করিমপুর -২০২৬ এ করিমপুর বিধানসভায় বিজেপির লড়াই শক্ত তার কারণ এই বিধানসভায় সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক একত্রিত থাকার কারণে  তৃণমূল কে অক্সিজেন দিতে পারে। তার থেকেও বড় কথা এখানে বিজেপির সংগঠন নেই বললেই চলে। সাংগঠনিকভাবে বিজেপি এখানে ততটা শক্তিশালী নয়। যতটা শক্তিশালী তৃণমূল এখানে তার অর্ধেক  সংগঠনও বিজেপির নেই এই বিধানসভায়। 
  ৪০% বুথে বিজেপির বুথ কমিটি নেই।  ৩০% বুথে বুথ সভাপতি থাকলেও তার কমিটি নেই। এই সংগঠন নিয়ে বিজেপির জয়ের স্বপ্ন দেখতে পারে না। কিন্তু এখনো সময় আছে সঠিক কার্যকর্তাদের দায়িত্ব দিলে এই সংগঠন হয়তো কিছুটা উন্নত করা যাবে। এই বিধানসভায় বিজেপির পুরনো কর্মীদের বসিয়ে রেখে সিপিএম থেকে আসার লোকজনদের কমিটির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বেশিরভাগ মন্ডল সভাপতিদের সিপিএম থেকে আসা লোকজনদের করা হয়েছে। এমনকি গত পঞ্চায়েত ভোটে ও  সিপিএম থেকে আসা লোকজনদের জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতির ও পঞ্চায়েতে টিকিট দেওয়া হয়েছে পুরানো কর্মীদের বসিয়ে রেখে। 
 যার কারণে এখানে বিজেপির সংগঠন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এমনকি গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম থেকে আসা এমএলএ সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ কে প্রার্থী করায়  কর্মীদের ক্ষোভের কারণে এই বিধানসভায় বিজেপি ভালো ফল করতে পারেনি। 
 সব থেকে বড় কথা বিধানসভা ভোটের পরে সমর বাবুকে সেভাবে মাঠে ময়দানে লড়াই করতে দেখা যায়নি। পার্টির কর্মসূচিতে সেভাবে দেখা যায়নি সমর বাবুকে। 
 এই সমস্ত কারণেই বিজেপির সংগঠন করিমপুর বিধানসভায় পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বিজেপির সাংগঠনিক সমস্যা ও প্রশাসনিক সমস্যার কারণে এই বিধানসভার মানুষের অনেকটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। 
 বিজেপির একমাত্র আশার আলো জ্বালিয়ে রেখেছেন  এক সময় বিজেপির  ছাত্র সংগঠন  করা  ও বর্তমানে জেলা কমিটির সম্পাদক মৃগেন কুমার বিশ্বাস। 
 একমাত্র তিনিই সারা বছর ধরে মাঠে ময়দানে থাকেন। তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনিই একমাত্র প্রতিবাদে সামিল হন। বাকি কাজকর্তাদের সেভাবে সামনে দেখা যায় না। 
 আমাদের জনমত সমীক্ষায় যে তথ্য উঠে এসেছে , এই বিধানসভা তৃণমূলের জয় সম্ভাবনা  ৭০-৩০%। বিজেপির এখানে আশা খুবই কম। 
তবু যদি এখন থেকে বিজেপির সংগঠন ঢেলে সাজায় এবং সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করতে পারে  তাহলে বিজেপি এখানে শক্ত লড়াইতে ফেলে দিতে পারবে তৃণমূলকে। তখন যদি বিজেপির কোন পুরনো নেতৃত্বকে এখানে টিকিট দেওয়া হতো তাহলে আজকে সংগঠন এভাবে ভেঙে পড়তো না। ছাত্র বয়স থেকে রাজনীতি করে করে আসা  নেতৃত্ব মৃগেন কুমার বিশ্বাসকে  এই বিধানসভায় মানুষজন চেয়েছিল প্রার্থী হওয়ার জন্য। কিন্তু দল অন্য চিন্তা-ভাবনা করে  সিপিএম থেকে আসা নেতাকে টিকিট দিয়েছিল।  সেই কারণেই আজকের এই সংগঠনিক দুরবস্থা।
 এই বিধানসভায় সাধারণ মানুষের ও বিজেপি কর্মীদের  মতামতের ভিত্তিতে যে তথ্য উঠে এসেছে , তার থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, সাংগঠনিক দূর্বলতার কারণেই বিজেপি পিছিয়ে পড়েছে এই বিধানসভায়। ২০২১ সালের ভুল  প্রার্থী  নির্বাচনের কারণে এখানকার সংগঠন আরো নষ্ট হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেছেন এখানকার স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। 

Friday, August 1, 2025

নাকাশিপাড়া বিধানসভায় ২০২৬শে নতুন মুখ চাইছে শাসক বিরোধী দুই শিবির।

পার্থ সারথি দত্ত, নদিয়া নিউজ, নাকাশিপাড়া - বিভিন্ন জনমত সমীক্ষা ও নিউজ চ্যানেল এর সার্ভে থেকে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে ২০২৬ এ বিধানসভা নির্বাচন তৃণমূল এগিয়ে থেকে শুরু করলেও এখানে যদি, কিন্তু,অথবা, পড়ন্তু,অনেক কিছু নির্ভর করছে ফলাফলের উপরে। 
 তার কারণ এই বিধানসভায় সংখ্যালঘু ভোটের উপর নির্ভর করেই তৃণমূল পরপর তিনবার জয়লাভ করেছে। কল্লোল খানের কোর ভোট ব্যাংক এই সংখ্যালঘু ভোটারা। সেই ভরসাতেই তৃণমূল এবং কল্লোল খান আগামী ২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন উপড়ে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে। 
 কিন্তু বিজেপিও হাত গুটিয়ে বসে নেই, তারাও রণকৌশল শুরু করে দিয়েছে এই বিধানসভা কে নিয়ে।  ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের বিজেপি প্রার্থী শিক্ষক অনুপ কুমার মন্ডলকে সামনে রেখে বিজেপি  ২০২৬ শে একটা রণকৌশল ইতিমধ্যে হয়তো তৈরি করে ফেলেছে। তারকারন ২০২১ সালে বিজেপি প্রাথী শান্তনু দেব ভোট পরবর্তী সময়ে কর্মীদের সাথে সেভাবে যোগাযোগ রাখেনি। বর্তমানে তাকে সেভাবে দেখা যায় না পাটির কার্যক্রমে। অপর দিকে ২০১৬ সালের প্রাথী 
 শিক্ষক অনুপ কুমার মন্ডল পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা বর্তমানে। তিনি সমস্ত বিষয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মুভমেন্ট করছেন। শাসকদলের ঘুম ছুটিয়ে দিয়েছেন তিনি। জুয়া সাট্টা দুর্নীতি সবকিছুর বিরুদ্ধেই তিনি সামনাসামনি লড়াইতে উত্তীর্ণ হচ্ছেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে। শিক্ষক অনুপ কুমার মন্ডল এই মুহূর্তে বিজেপি মুখ হয়ে দাঁড়িয়েছেন এই নাকাশিপাড়া বিধানসভায়। 
 বিভিন্ন নিউজ চ্যানেলে যে সমস্ত সার্ভে উঠে আসছে তাতে দেখা যাচ্ছে, অনুপ কুমার মন্ডল এই মুহূর্তে নাকাশিপাড়া বিধানসভার সবচেয়ে জনপ্রিয় মুখ বিজেপির। 
 তবে শাসকদলের কল্লোল খান শারীরিক অসুস্থতার কারণে হয়তো এবার টিকিট নাও পেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে অভিষেক ঘনিষ্ঠ কনিষ্ঠ চক্রবর্তী তিনিও এবার প্রার্থীর দৌড়ে আছেন। তবে এবার এই বিধানসভায় জোটের প্রার্থী যদি থাকে  তৃণমূল খুব সহজে জয়লাভ করতে পারবে না। সামনের বিধানসভায়  সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক তৃণমূলের সাথে থাকবে এটা বলা যাচ্ছে না। 
নিয়োগ দুর্নীতি সহ বিভিন্ন দুর্নীতির কারণে সংখ্যালঘু ভোটাররাও আস্তে আস্তে তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। 
 তৃণমূলের থেকে বিজেপি এখানে তুলনামূলকভাবে ধীরে ধীরে তাদের সংগঠনকে গুছিয়ে নিতে শুরু করেছে। বর্তমানে এই বিধানসভায় শাসক দলের মাথা যন্ত্রণার কারণ হয়ে উঠেছেন অনুপ কুমার মন্ডল। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা কেলেঙ্কারি নিয়ে তিনি সোচ্চার হয়েছেন। 
 তিনি ব্লক উন্নয়ন সমষ্টি আধিকারিক এর কাছে লিখিতভাবে  আবাস যোজনার কেলেঙ্কারি নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। যেখানেই অন্যায় সেখানেই তিনি প্রতিবাদে সামিল হচ্ছেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে অনুপ বাবু।
 তবে বিজেপির এখানে মাইনাস পয়েন্ট হলো এখানে প্রায় ৩৭ শতাংশ বুথে বিজেপির বুথ কমিটি নেই। কিছু কিছু বুথে, বুথ সভাপতি থাকলেও তাদের কমিটি নেই। 
 নাকাশিপাড়া বিধানসভার মন্ডল কমিটিগুলো রাজনৈতিক কর্মসূচি সেভাবে করছে না। যার কারনে বিজেপির প্রচারে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। আজ থেকে পাড়ায় সমাধান ক্যাম্প শুরু হয়েছে। 
 এই পাড়ায় সমাধানের মাধ্যমে তৃণমূল তাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে চাইছে কিন্তু বিজেপি এই প্রকল্পের কিভাবে মোকাবেলা করে সেটাই দেখার। 
 কল্লোল খান তিনবার বিধায়ক হয়েছেন এই বিধানসভা থেকে। তিনি জানেন কিভাবে লড়াইটা করতে হয়। তাই বিজেপি থেকে যেই প্রার্থী হোক না কেন, তিনি যে কঠিন লড়াই তে পড়বেন সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার বিষয় আগামী ২৬শে কে বা কারা প্রার্থী হয়। তবে এখানে তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা ৬০-৪০।
 

দেবগ্রাম পঞ্চায়েতে পাট চাষীদের প্রশিক্ষণ ও বিনামূল্যে পাট পচানোর উপকরণ বিতরণ।

পার্থসারথি দত্ত, নদিয়া নিউজ, রানাঘাট  - আজ রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভার  দেবগ্রাম পঞ্চায়েতে  ভারত সরকারের বস্ত্র মন্ত্রকের উদ্যোগে পাট চাষীদের পাট পচানোর আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং পাট পচানোর উপকরণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। কয়েকশো চাষীকে এদিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কি ভাবে উন্নত জাতের পাট তৈরি করা যায় এবং তার তন্তু পাট জাত শিল্পের সঠিকভাবে ব্যবহার করার কৌশল শেখানো হয়েছে।
আজকের এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ডা. সুদীপ দাস, তিনি পশ্চিমবঙ্গ  বিজেপি তপশিলি মোর্চার সভাপতি এবং  ডঃ আম্বেদকর ফাউন্ডেশন, ভারত সরকার, সামাজিক ন্যায় এবং ক্ষমতায়ন মন্ত্রক এর সদস্য। এছাড়া 
উপস্থিত ছিলেন ভারত সরকারের তিনজন কৃষি বিজ্ঞানী এবং দেবগ্রাম পঞ্চায়েত এর ১০ জন পঞ্চায়েত সদস্য।

Sunday, July 27, 2025

নওপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এবং কুপার্স ক্যাম্পে জনসম্পর্ক কার্যক্রম SC মোর্চার

দীপঙ্কর বাছার, নদিয়া নিউজ, রানাঘাট - আজকে বিজেপি এসসি মোর্চার উদ্যোগে  রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভার অন্তর্গত নওপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এবং কুপার্স ক্যাম্পে জনসম্পর্ক কার্যক্রম করা হয়। বিজেপি SC মোর্চা, রাজ্য সভাপতি সুদীপ দাস উপস্থিত ছিলেন আজকের এই কার্যক্রমে।
 মূলত প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে জন সম্পর্ক অভিযান  ও ভোটার তালিকা সংশোধন বিষয় নিয়ে মানুষকে সচেতন করার জন্য আজকের এই কার্যক্রম করা হয়েছে বলে জানান, সুদীপ দাস।।
নওপাড়া পঞ্চায়েতের একাধিক কার্যকর্তা ও কুপাস ক্যাম্পের দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আজকের এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। 
 এছাড়া কার্যকর্তাদের বাড়িতে জনসংযোগ করা হয়।

নদীয়া জেলায় বিজেপি সংগঠন শক্তিশালী হলেও ২০২১ শের তুলনায় দুর্বল।

নন্দিতা দাশগুপ্ত, নদিয়া নিউজ, রানাঘাট - ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে যতটা বিজেপির হাওয়া ছিল তার তুলনায়  ২০২৬শে বিধানসভা নির্বাচনে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। 
 ২০২১ সালে যে হাইপ তৈরি হয়েছিল  এবার সেটা কিন্তু নেই। এটা বিজেপির পক্ষে মঙ্গল হতে পারে। যে গণহারে মুড়ি-মুরকির মত  তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীরা বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন সেটা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। যার কারণে বাংলার মানুষ বিজেপিকে  ক্ষমতায় দেখতে চাইনি তৃণমূলকে সরিয়ে। এটা বিজেপির সাপে বর হয়েছে। আজকের তৃণমূলের আসল চেহারা মানুষের সামনে বিগত পাঁচ বছরে ফুটে উঠেছে।
 তৃণমূল আসলে যে হিন্দু সনাতনী মানুষের জন্য কোন কাজ করবে না সে যতই দীঘায় জগন্নাথ মন্দির তৈরি করুক না কেন। সেটা বাংলা সনাতনী মানুষরা বুঝে গেছে।
 এই জেলার তিন টি বড় শহর কল্যাণী,  কৃষ্ণনগর এবং রানাঘাট। এছাড়া বগুলা, বেথুয়াডহরি উল্লেখযোগ্য পৌরসভা গুলি অতীতের তুলনায় কিছুটা উন্নতি হলেও সামগ্রিকভাবে অনেকটাই পিছিয়ে আছে অন্যান্য জেলার তুলনায়। 

কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট লোকসভার মধ্যে যে বিধানসভা আসন গুলি ২০২৬ শে বিজেপির জয়ের জায়গায় আছে।

দেবযানী সাহা,নদীয়া নিউজ, নদীয়া - ২০২৬ শে কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট লোকসভার মধ্যে যে আসন গুলি বিজেপি জিততে পারে  এবং যে আসন গুলিতে লড়াই দিতে পারবে ...