তার কারণ এই বিধানসভায় সংখ্যালঘু ভোটের উপর নির্ভর করেই তৃণমূল পরপর তিনবার জয়লাভ করেছে। কল্লোল খানের কোর ভোট ব্যাংক এই সংখ্যালঘু ভোটারা। সেই ভরসাতেই তৃণমূল এবং কল্লোল খান আগামী ২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন উপড়ে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে।
কিন্তু বিজেপিও হাত গুটিয়ে বসে নেই, তারাও রণকৌশল শুরু করে দিয়েছে এই বিধানসভা কে নিয়ে। ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের বিজেপি প্রার্থী শিক্ষক অনুপ কুমার মন্ডলকে সামনে রেখে বিজেপি ২০২৬ শে একটা রণকৌশল ইতিমধ্যে হয়তো তৈরি করে ফেলেছে। তারকারন ২০২১ সালে বিজেপি প্রাথী শান্তনু দেব ভোট পরবর্তী সময়ে কর্মীদের সাথে সেভাবে যোগাযোগ রাখেনি। বর্তমানে তাকে সেভাবে দেখা যায় না পাটির কার্যক্রমে। অপর দিকে ২০১৬ সালের প্রাথী
শিক্ষক অনুপ কুমার মন্ডল পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা বর্তমানে। তিনি সমস্ত বিষয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মুভমেন্ট করছেন। শাসকদলের ঘুম ছুটিয়ে দিয়েছেন তিনি। জুয়া সাট্টা দুর্নীতি সবকিছুর বিরুদ্ধেই তিনি সামনাসামনি লড়াইতে উত্তীর্ণ হচ্ছেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে। শিক্ষক অনুপ কুমার মন্ডল এই মুহূর্তে বিজেপি মুখ হয়ে দাঁড়িয়েছেন এই নাকাশিপাড়া বিধানসভায়।
বিভিন্ন নিউজ চ্যানেলে যে সমস্ত সার্ভে উঠে আসছে তাতে দেখা যাচ্ছে, অনুপ কুমার মন্ডল এই মুহূর্তে নাকাশিপাড়া বিধানসভার সবচেয়ে জনপ্রিয় মুখ বিজেপির।
তবে শাসকদলের কল্লোল খান শারীরিক অসুস্থতার কারণে হয়তো এবার টিকিট নাও পেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে অভিষেক ঘনিষ্ঠ কনিষ্ঠ চক্রবর্তী তিনিও এবার প্রার্থীর দৌড়ে আছেন। তবে এবার এই বিধানসভায় জোটের প্রার্থী যদি থাকে তৃণমূল খুব সহজে জয়লাভ করতে পারবে না। সামনের বিধানসভায় সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক তৃণমূলের সাথে থাকবে এটা বলা যাচ্ছে না।
নিয়োগ দুর্নীতি সহ বিভিন্ন দুর্নীতির কারণে সংখ্যালঘু ভোটাররাও আস্তে আস্তে তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে।
তৃণমূলের থেকে বিজেপি এখানে তুলনামূলকভাবে ধীরে ধীরে তাদের সংগঠনকে গুছিয়ে নিতে শুরু করেছে। বর্তমানে এই বিধানসভায় শাসক দলের মাথা যন্ত্রণার কারণ হয়ে উঠেছেন অনুপ কুমার মন্ডল। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা কেলেঙ্কারি নিয়ে তিনি সোচ্চার হয়েছেন।
তিনি ব্লক উন্নয়ন সমষ্টি আধিকারিক এর কাছে লিখিতভাবে আবাস যোজনার কেলেঙ্কারি নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। যেখানেই অন্যায় সেখানেই তিনি প্রতিবাদে সামিল হচ্ছেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে অনুপ বাবু।
তবে বিজেপির এখানে মাইনাস পয়েন্ট হলো এখানে প্রায় ৩৭ শতাংশ বুথে বিজেপির বুথ কমিটি নেই। কিছু কিছু বুথে, বুথ সভাপতি থাকলেও তাদের কমিটি নেই।
নাকাশিপাড়া বিধানসভার মন্ডল কমিটিগুলো রাজনৈতিক কর্মসূচি সেভাবে করছে না। যার কারনে বিজেপির প্রচারে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। আজ থেকে পাড়ায় সমাধান ক্যাম্প শুরু হয়েছে।
এই পাড়ায় সমাধানের মাধ্যমে তৃণমূল তাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে চাইছে কিন্তু বিজেপি এই প্রকল্পের কিভাবে মোকাবেলা করে সেটাই দেখার।
কল্লোল খান তিনবার বিধায়ক হয়েছেন এই বিধানসভা থেকে। তিনি জানেন কিভাবে লড়াইটা করতে হয়। তাই বিজেপি থেকে যেই প্রার্থী হোক না কেন, তিনি যে কঠিন লড়াই তে পড়বেন সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার বিষয় আগামী ২৬শে কে বা কারা প্রার্থী হয়। তবে এখানে তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা ৬০-৪০।
No comments:
Post a Comment