৪০% বুথে বিজেপির বুথ কমিটি নেই। ৩০% বুথে বুথ সভাপতি থাকলেও তার কমিটি নেই। এই সংগঠন নিয়ে বিজেপির জয়ের স্বপ্ন দেখতে পারে না। কিন্তু এখনো সময় আছে সঠিক কার্যকর্তাদের দায়িত্ব দিলে এই সংগঠন হয়তো কিছুটা উন্নত করা যাবে। এই বিধানসভায় বিজেপির পুরনো কর্মীদের বসিয়ে রেখে সিপিএম থেকে আসার লোকজনদের কমিটির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বেশিরভাগ মন্ডল সভাপতিদের সিপিএম থেকে আসা লোকজনদের করা হয়েছে। এমনকি গত পঞ্চায়েত ভোটে ও সিপিএম থেকে আসা লোকজনদের জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতির ও পঞ্চায়েতে টিকিট দেওয়া হয়েছে পুরানো কর্মীদের বসিয়ে রেখে।
যার কারণে এখানে বিজেপির সংগঠন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এমনকি গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম থেকে আসা এমএলএ সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ কে প্রার্থী করায় কর্মীদের ক্ষোভের কারণে এই বিধানসভায় বিজেপি ভালো ফল করতে পারেনি।
সব থেকে বড় কথা বিধানসভা ভোটের পরে সমর বাবুকে সেভাবে মাঠে ময়দানে লড়াই করতে দেখা যায়নি। পার্টির কর্মসূচিতে সেভাবে দেখা যায়নি সমর বাবুকে।
এই সমস্ত কারণেই বিজেপির সংগঠন করিমপুর বিধানসভায় পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বিজেপির সাংগঠনিক সমস্যা ও প্রশাসনিক সমস্যার কারণে এই বিধানসভার মানুষের অনেকটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
বিজেপির একমাত্র আশার আলো জ্বালিয়ে রেখেছেন এক সময় বিজেপির ছাত্র সংগঠন করা ও বর্তমানে জেলা কমিটির সম্পাদক মৃগেন কুমার বিশ্বাস।
একমাত্র তিনিই সারা বছর ধরে মাঠে ময়দানে থাকেন। তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনিই একমাত্র প্রতিবাদে সামিল হন। বাকি কাজকর্তাদের সেভাবে সামনে দেখা যায় না।
আমাদের জনমত সমীক্ষায় যে তথ্য উঠে এসেছে , এই বিধানসভা তৃণমূলের জয় সম্ভাবনা ৭০-৩০%। বিজেপির এখানে আশা খুবই কম।
তবু যদি এখন থেকে বিজেপির সংগঠন ঢেলে সাজায় এবং সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করতে পারে তাহলে বিজেপি এখানে শক্ত লড়াইতে ফেলে দিতে পারবে তৃণমূলকে। তখন যদি বিজেপির কোন পুরনো নেতৃত্বকে এখানে টিকিট দেওয়া হতো তাহলে আজকে সংগঠন এভাবে ভেঙে পড়তো না। ছাত্র বয়স থেকে রাজনীতি করে করে আসা নেতৃত্ব মৃগেন কুমার বিশ্বাসকে এই বিধানসভায় মানুষজন চেয়েছিল প্রার্থী হওয়ার জন্য। কিন্তু দল অন্য চিন্তা-ভাবনা করে সিপিএম থেকে আসা নেতাকে টিকিট দিয়েছিল। সেই কারণেই আজকের এই সংগঠনিক দুরবস্থা।
এই বিধানসভায় সাধারণ মানুষের ও বিজেপি কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে যে তথ্য উঠে এসেছে , তার থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, সাংগঠনিক দূর্বলতার কারণেই বিজেপি পিছিয়ে পড়েছে এই বিধানসভায়। ২০২১ সালের ভুল প্রার্থী নির্বাচনের কারণে এখানকার সংগঠন আরো নষ্ট হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেছেন এখানকার স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা।
No comments:
Post a Comment