নদীয়া উত্তর জেলা কমিটি গঠন নিয়ে প্রকাশ্যে দলের বিরোধ দেখা যাচ্ছে। জেলা সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছেন পুরানো কর্মীদের কাছে। তার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ রাজ্যে জমা পড়েছে সেটা কল্পনার অতীত। নদীয়া দক্ষিণ জেলা সভাপতি একজন মহিলা। সেই অপর্ণা নন্দীর বিরুদ্ধে অতটা অভিযোগ না থাকলেও তিনিও শান্তিতে নেই তার জেলা কমিটি নিয়ে।
শাসক দল তৃণমূলের জেলা সভাপতি তার বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। এককথায় বলতে গেলে শাসক এবং বিরোধীদল জেলা সভাপতি নিয়ে বড় চিন্তায় আছেন। সাংগঠনিকভাবে দুই দলই সামান্য হলেও এলোমেলো অবস্থায় আছে।
এমতাবস্থায় বিধানসভা ভোট হলে কৃষ্ণনগর লোকসভার মধ্যে যে সাতটি বিধানসভা আছে তার মধ্যে তিনটি বিজেপির জয় সম্ভাবনা আছে প্রবলভাবে। তৃণমূলের প্রবলভাবে জয়ের সম্ভাবনা আছে দুটি আসনে। আর দুটি আসনে দুই দল যে কেউ জিততে পারে।
৭৮ তেহট্ট বিধান সভা , ৭৯ পলাশীপাড়া বিধানসভা, ৮০ কালিগঞ্জ বিধানসভা, ৮১ নাকাশিপাড়া বিধানস, ৮২ চাপড়া বিধানসভা, ৮৩ কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা, ৮৫ কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভা।
১) কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভায় বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা ৭৩ শতাংশ। এখানে বিজেপির মুকুল রায় জয়লাভ করেছিলেন ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে। তিনি মোট ভোট পেয়েছিলেন ১লক্ষ ৯ হাজার ৩৫৭ ভোট।
আর তৃণমূলের কৌশানী মুখার্জী পেয়েছিলেন ৩৭% ভোট। তিনি মোট ভোট পেয়েছিলেন ৭৪ হাজার ২৭৮ ভোট।
বিজেপি এখানে প্রাথী করতে পারেন গত লোকসভার প্রাথী রানীমা অমৃতা রায় কে। প্রায় ৬৮% সাধারণ মানুষ ও কর্মীরা তাকে এখানে প্রাথী হিসাবে দেখতে চাইছে। তিনি কর্মীদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন সভা মিটিং মিছিলে অংশগ্রহণ করেছেন। দল হয়তো তাকে প্রাথী করার কথা ভাবছে। তবে এখানে একজন রাজ্য নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। তিনিও এখানে প্রাথী হওয়ার দৌড়ে আছেন। তবে এই বিধান সভার মানুষ স্থানীয় কাউকে প্রাথী হিসেবে দেখতে চাইছে।
চঞ্চল বিশ্বাসের নামও শোনা যাচ্ছে দৌড়ে তিনিও আছেন।
তৃণমূল এখানে হয়তো আর কৌশানী মুখার্জীকে প্রার্থী করবেন না। সে ক্ষেত্রে কোন এক যুবনেতার নাম শোনা যাচ্ছে।
২) নাকাশিপাড়া বিধানসভায় তৃণমূলের জয়ের সম্ভবনা ৫২%। ২০২১ সালে তৃণমূল এখানে ৫০% ভোট পেয়েছিল। বিজেপি পেয়েছিল ৪০% ভোট।
তৃণমূলের কল্লোল খান পেয়েছিলেন ১লক্ষ ৪ হাজার ৮১২ ভোট। আর বিজেপির শান্তনুদেব পেয়েছিলেন ৮৩ হাজার ৫৪১ ভোট।
এখানে তৃণমূল আপাতত দৃষ্টিতে এগিয়ে থাকলেও SIR হলে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ভোট কমে যেতে পারে। অপর দিকে CAA এপ্লিকেশন এর তারিখ কেন্দ্র সরকার ১০ বছর বৃদ্ধি করার কারণে মতুয়া উদ্বাস্তু তপশিলি ভোট ব্যাংক বিজেপি ঝুলিতে প্রায় পুরোটাই পরতে পারে। সেক্ষেত্রে এই বিধানসভা যে কেউ জিততে পারে।
এখানে শাসকদল প্রার্থী হিসেবে কল্লোল খান কে পুনরায় প্রার্থী নাও করতে পারেন। কল্লোল খানের শারীরিক পরিস্থিতি বিচার করে হয়তো অন্য কাউকে এখানে প্রার্থী করার সম্ভাবনা চলছে। সে ক্ষেত্রে অভিষেক ঘনিষ্ঠ কনিষ্ক চক্রবর্তী এর নাম শোনা যাচ্ছে। জনমত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে কনিষ্ক চক্রবর্তীকে প্রায় ৫২ শতাংশ মানুষ তাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন।
অপরদিকে বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে প্রথমেই যে নামটি ভেসে উঠছেন তিনি হলেন শিক্ষক অনুপ কুমার মন্ডল এর নাম। তিনি পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা। অপরদিকে তিনি নাকাশিপাড়া বিধানসভা জুড়ে যেভাবে সিএ এবংSIR নিয়ে আলোচনা শিবির করছেন তাতে তার জনপ্রিয়তা সকলের থেকে এগিয়ে। প্রায় ৫২ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা তাকে এখান থেকে এবার প্রার্থী হিসেবে চাইছে। অপরদিকে তিনি এই বিধানসভা থেকে ২০১৬ সালে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন।
অপরদিকে যে দ্বিতীয় স্থানে যে নামটি উঠে এসেছে তিনি হলেন গতবারের প্রার্থী শান্তনু দেব। প্রায় ২৮ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা তাকে প্রার্থী হিসেবে এখান থেকে দেখতে চাইছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কর্মীদের অভিযোগ তিনি ভোট পরবর্তী সময়ে কর্মীদের সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখেননি।
শুধু তাই নয় কর্মীরা আরো অভিযোগ করেছে, শান্তনু দে ভোটে যে টাকা পেয়েছিলেন দলের তরফ থেকে সেই টাকা তিনি পুরোটা খরচ করেন নি। অনেক কার্যকর্তাই এই অভিযোগটা তার বিরুদ্ধে তুলেছেন।
তৃতীয় স্থানে প্রার্থী হিসেবে ১১ শতাংশ মানুষ দীনেশ বিশ্বাস কে চাইছেন। বাকি আরো কয়েকটি নাম শোনা।
৩) পলাশীপাড়া বিধানসভায় তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা ৬০%। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে এখান থেকে তৃণমূল ৫৪% ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছিল। আর বিজেপি পেয়েছিল ২৯% ভোট।
তৃণমূলের মানিক ভট্টাচার্য পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ১০ হাজার ২৭৪ ভোট।
আর বিজেপির বিভাস চন্দ্র মন্ডল পেয়েছিলেন ৫৮ হাজার ৯৩৮ ভোট।
সিপিএমের এস এম শাদী পেয়েছিলেন ২৬ হাজার ২২৮ ভোট।
শাসক দল তৃণমূল হয়তো এখান থেকে মানিক ভট্টাচার্যকে আর প্রার্থী করবে না। সে ক্ষেত্রে নতুন কাউকে প্রার্থী করতে পারে। একজন জেলা পরিষদ সদস্যকে এখানে প্রার্থী করার কথাবার্তা চলছে।
বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে প্রথমে যে নামটি ভেসে উঠছে তিনি হলেন সঙ্গীতা ঘোষ।জনমত সমীক্ষায় প্রায় ৫৩ শতাংশ মানুষ তাকে প্রার্থী হিসেবে এখান থেকে দেখতে চাইছে। এই বিধানসভা মানুষের দাবি এখান থেকে কোন মহিলাকে প্রার্থী করা হোক। সে ক্ষেত্রে সঙ্গীতা ঘোষের নামটা প্রথমেই থাকবে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে।
দ্বিতীয়ত প্রার্থী দৌড়ে রয়েছেন বিভাস চন্দ্র মন্ডল এর নাম। প্রায় ২৮ শতাংশ মানুষ তাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন। কিন্তু বয়স জনিত কারণে তাকে হয়তো দল প্রার্থী নাও করতে পারে।
৪) কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভায় বিজেপি জয়ের সম্ভবনা ৫৬%। লোকসভা ভোটে বিজেপি এখানে ভালো ফল করেছে। কিন্তু ২০২১ এখানে বিজেপি জিততে পারেনি। তৃণমূল এখানে ৪৭% ভোট পেয়েছিল। তৃণমূলের উজ্জ্বল বিশ্বাস ৯১ হাজার ৭৩৮ ভোট পেয়েছিলেন। বিজেপি এখানে ৪২% ভোট পেয়েছিল। বিজেপির মহাদেশ সরকার তিনি মোট ৮২৪৩৩ ভোট পেয়েছিলেন।
সিপিএমের সুমিত বিশ্বাস পেয়েছিলেন ১৫৬০৬ ভোট।
শাসক দল তৃণমূলের প্রার্থী হওয়া দৌড়ে সবার উপরেই থাকবে উজ্জ্বল বিশ্বাসের নাম।
বিজেপি প্রার্থী দৌড়ে মহাদেব সরকারের নাম। প্রায় ৪৮ শতাংশ মানুষ চাইছেন তিনি এখান থেকে প্রার্থী হন। দ্বিতীয় যে নামটি ভেসে আসছেন তিনি হলেন প্রদীপ ঘোষ। তাকে ৪২ শতাংশ কর্মী ও সমর্থকরা চাইছেন যে তিনি এখান থেকে প্রার্থী হোক।
৫) তেহট্ট বিধানসভায় তৃণমূলের জয় সম্ভাবনা ৫২%। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল এখান থেকে ৪৫% ভোট পেয়েছিল। তৃণমূলের তাপস কুমার সাহা ৯৭৮৪৮ ভোট পেয়েছিলেন।
বিজেপি এখানে ৪২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।
বিজেপির জেলার তৎকালীন সভাপতি আশুতোষ পাল পেয়েছিলেন ৯০৯৩৩ ভোট ।
তৃণমূল প্রার্থীর দৌড়ে আপাতত কারো নাম জানা যাচ্ছে না। যেহেতু এখানকার বিধায়ক তাপস কুমার সাহা মারা গেছেন। হয়তো তার পরিবার থেকে কাউকে প্রার্থী করা হতে পারে এখানে।
বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে প্রথমেই থাকবে আশুতোষ পালের নাম। তবে একজন ডাক্তারবাবু প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
এছাড়া নাম উঠে এসেছে মতুয়া নেতা অনিমেষ বালার। তিনি শান্তনু ঠাকুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
৬) চাপড়া বিধানসভায় তৃণমূলের জয় সম্ভাবনা ৫১%। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল এখান থেকে মাত্র ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এই বিধানসভাটির মুখে লড়াই হওয়ার কারণে তৃণমূল এত কম ভোট পেয়েছিল। রূকবানুর রহমান ৭৩৮৩৩ ভোট পেয়েছিল।
বিজেপির কল্যাণ কুমার নন্দী পেয়েছিলেন ৫৮ হাজার ১৬৮ ভোট।
নির্দল প্রার্থী জাবের শেখ পেয়েছিলেন ৬১ হাজার ৭৪১ ভোট।
এখানে এখানে শাসক দল তৃণমূল প্রার্থীর দৌড়ে প্রথমেই থাকবেন রুকবানুর রহমানের নাম। প্রায় ৭৫% মানুষ চাইছে তিনি এখান থেকে প্রার্থী হন।
বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে প্রথমেই নাম আছে কল্যাণ নন্দীর। যেহেতু তিনি গতবারের প্রার্থী ছিলেন। তার আবার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এছাড়া নাম উঠে এসেছে চুন্নি চক্রবর্তী, প্রকাশ অধিকারী ও পরিতোষ সরকারের।
৭) কালিগঞ্জ বিধানসভায় তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা ৭৫%। উপনির্বাচনের তৃণমূল এখানে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে SIR হলে জয়ের মার্জিন অনেকটাই কমতে পারে তৃণমূলের।
তৃণমূল এখানে উপনির্বাচনের ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।
তৃণমূলের আলিফা আহমেদ তিনি ১ লক্ষ ২১৭৯ ভোট পেয়েছিল।
বিজেপির আশীষ কুমার ভোট ৫২ হাজার ৭১০ ভোট পেয়েছিল। মাত্র ২৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বিজেপি এখানে।
এখানে তৃণমূল প্রার্থীর দৌড়ে প্রথমেই থাকবে আলীফা আহমেদের নাম। প্রায় ৮৫% তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা তাকেই প্রার্থী হিসেবে চাইছে।
বিজেপি প্রার্থীদের প্রথমেই থাকছে আশীষ কুমার ঘোষের নাম। একজন জেলা সম্পাদকের নামও শোনা যাচ্ছে প্রার্থীর দৌড়ে তিনি আছেন।
রানাঘাট লোকসভার মধ্যে যে সাতটি বিধানসভা আছে তারমধ্যে তে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা চারটি আসনে। তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা দুটি আসনে। একটি আসনে শাসক বিরোধী যে কেউ জিততে পারে।
নবদ্বীপ বিধানসভা, শান্তিপুর বিধানসভা, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম বিধানসভা, রানাঘাট উত্তর পূর্ব বিধানসভা, রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা, চাকদা বিধানসভা।
১) আমাদের জনমত সমীক্ষায় -
রানাঘাট উত্তর পশ্চিম বিধানসভা বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা আছে ৬৮%। আর এখানে তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ২০২১এ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এখান থেকে ৫০.৯৪ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতেছিল। আর তৃণমূল পেয়েছিল ৪০.৫৫% ভোট। দশ শতাংশ ভোটের ব্যবধান আছে এখানে বিজেপির সাথে তৃণমূল এর।
বিজেপির পার্থ সারথী চ্যাটার্জী তিনি পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ১২ হাজার ৪১৩ ভোট।
তৃণমূলের শঙ্কর সিংহ পেয়েছিলেন ৮৯ হাজার ৫০৩ ভোট।
বিজেপি এখানে হয়তো পুনরায় পার্থ সারথী চ্যাটার্জী কে প্রাথী করবে। তবে নতুন এক যুব নেতার নামও শোনা যাচ্ছে। পার্থ বাবু প্রাক্তন জেলা সভাপতি ও MP জগন্নাথ সরকার ঘনিষ্ঠ। তাই তার টিকিট এক প্রকার নিশ্চিত। কিন্তু সূত্রের খবর বিজেপির অনেক বিধায়ক এবার টিকিট নাও পেতে পারেন। আবার জায়গা পরিবর্তন হতে পারে অনেক বিধায়ক এর।
তৃণমূল হয়তো পুনরায় শঙ্কর সিংহ কে প্রাথী করবে। কিন্তু সূত্র মারফাত জানা যাচ্ছে তৃণমূল হয়তো শঙ্কর সিংহের ছেলে কে দার করাতে পারেন।
২) রানাঘাট দক্ষিণ বিধান সভায় বিজেপির সম্ভবনা আছে ৫৫%। যদিও উপনির্বাচনে তৃণমূল জয় লাভ করেছে। ২০২১ এই আসন বিজেপির দখলে ছিল। ২০২৬ শে আবার বিজেপির জয়ের পেক্ষাপট তৈরি হয়েছে।
এখানে উপনির্বাচনে তৃণমূলের মুকুটমনি অধিকারী ৫৫.০৮% ভোট পেয়ে জয় লাভ করেছিলেন। তিনি মোট ভোট পেয়েছিলেন ১লক্ষ ১৩ হাজার ৫৩৩ ভোট।
বিজেপির মনোজ কুমার বিশ্বাস পেয়েছিলেন ৭৪ হাজার ৪৮৫ ভোট। তিনি মোট পোলিং ভোটের ৩৬. ১৩% ভোট পেয়েছিলেন।
আর সিপিএম এর অরিন্দম বিশ্বাস পেয়েছিলেন ১৩ হাজার ০৮২ ভোট।
শাসক দল তৃণমূল হয়তো পুনরায় মুকুটমনি অধিকারীকে প্রাথী করবে।
বিজেপির প্রাথী হওয়ার দৌড়ে অনেক এর নাম শোনা যাচ্ছে।
তবে এখানে কোনো বহিরাগত প্রাথী মেনে নেবে না বিজেপি কর্মীরা। সেক্ষেত্রে মনোজ বিশ্বাস কে আর এখানে প্রাথী করা হবে না এক প্রকার নিশ্চিত।
দৌড়ে বেশ কয়েকটি নাম ভেসে উঠেছে। প্রথমেই যে নাম শোনা যাচ্ছে তিনি হলেন অসিত বরন মন্ডল।জনমত সমীক্ষায় প্রায় ৩৯% মানুষ তাকে এখানে প্রাথী হিসাবে চাইছেন। এই বিধানসভার বেশিরভাগ মন্ডল সভাপতিদেরও পছন্দের প্রাথী হলেন অসিত বাবু।
তারপর যে নামটি প্রবল ভাবে উঠে এসেছে তিনি হলেন সুদীপ দাস। প্রায় ৩৮% মানুষ তাকে প্রাথী হিসাবে চাইছেন। কিছু দিন হলো তিনি তার ভোট এই বিধানসভায় স্থানান্তর করেছেন।
তিনি রাজ্য বিজেপি তপশিলি মোর্চার সভাপতি ও ভারত সরকারের ডক্টর আম্বেদকর ফাউন্ডেশনের সদস্য।
তিনি বিভিন্ন প্রোগ্রাম করছেন বিধানসভা জুড়ে। কর্মীদের নিয়ে সম্পর্ক অভিযান করছেন বিভিন্ন অঞ্চলে।
আরেক যুব নেতার নামও শোনা যাচ্ছে। তিনিও দৌড়ে আছেন।
৩) রানাঘাট উত্তর পূর্ব বিধানসভায় বিজেপির জয়ের সম্ভবনা ৭২%। ২০২১ শে বিধানসভা নির্বাচনে এখানে বিজেপি ৫৪.৩৯% ভোট পেয়ে জয় লাভ করেছিল। বিজেপির অসীম কুমার বিশ্বাস পেয়েছিলেন ১লক্ষ ১৬ হাজার ৭৮৫ ভোট।
আর তৃণমূল এর সমীর কুমার পোদ্দার পেয়েছিলেন ৩৯.৫৯% ভোট। তিনি মোট ভোট পেয়েছিলেন ৮৫ হাজার ৪ ভোট।
এখানে বিজেপির অসীম কুমার বিশ্বাস এর প্রাথী হওয়ার সম্ভবনা প্রবল। প্রায় ৭২% মানুষ তাকে প্রাথী হিসাবে চাইছেন।
অপর দিকে তৃণমূল এখানে সমীর কুমার পোদ্দার কে পুনরায় প্রাথী করতে পারেন। তবে একজন জেলা পরিষদ সদস্য এর নাম শোনা যাচ্ছে। তিনিও দৌড়ে আছেন।
৪) নবদ্বীপ বিধানসভায় বিজেপির জয়ের সম্ভবনা ৫১%। যদিও উপ নির্বাচনে তৃণমূল জয় লাভ করেছিল এখানে। বর্তমানে তৃণমূলের বিধায়ক এখানে। পুন্দরিক্ষ সাহা তিনি এখানে ৪৮.৫২% ভোট পেয়েছিলেন। তিনি মোট ১লক্ষ ২ হাজার ১৭০ ভোট পেয়েছিলেন।
বিজেপির সিদ্ধার্থ নস্কর পেয়েছিলেন ৩৯.৭০% ভোট। তিনি মোট ৮৩ হাজার ৫৯৯ ভোট পেয়েছিলেন।
সিপিএম এর সর্ণেন্দু সিংহ পেয়েছিলেন ৮. ৮% ভোট।
তৃণমূল এখানে পুনরায় পুন্দরিক্ষ সাহা কে প্রাথী করবে। বিজেপি এখানে হয়তো সিদ্ধার্থ নস্কর কে পুনরায় প্রাথী করতে পারেন। তবে জনমত সমীক্ষায় ৪১% মানুষ তাকে প্রাথী হিসাবে এখানে চাইছেন। গৌতম পালের নাম উঠে এসেছে। ৩৭ শতাংশ মানুষ তাকে পুনরায় প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছে। কারন তিনি ২০১৬ সালের প্রার্থী ছিলেন এই বিধানসভায়। তবে আরো কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে।
৫) কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভায় বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা ৫৮%। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে এখান থেকে বিজেপি ৫১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।
বিজেপির আশীষ কুমার বিশ্বাস পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ১৭ হাজার ৬৬৮ ভোট।
তৃণমূল এখানে পেয়েছিল ৪২ শতাংশ ভোট। ডক্টর তাপস মন্ডল পেয়েছিলেন ৯৬ হাজার ৩৯১ ভোট।
সিপিএমের ঝুনু বৈদ্য ১০৯১৩ ভোট।
তৃণমূল এখান থেকে পুনরায় ডক্টর তাপস মন্ডলকে প্রার্থী করতে পারেন। তবে একজন মহিলা প্রার্থীর নামও শোনা যাচ্ছে তৃণমূল তাকে প্রার্থী করতে পারে।
বিজেপি প্রার্থীর ধরে প্রথমেই যে নামটি উঠে আসছেন তিনি হল সুজিত কুমার বিশ্বাস। প্রায় ৫৩ শতাংশ কর্মী সমর্থকরা তাকে এখানে প্রার্থী হিসেবে চাইছে। সুজিত কুমার বিশ্বাস নদীয়া জেলার প্রাক্তন সভাপতির ছেলে। তিনি বিজেপি পরিবারের সন্তান। মতুয়া মহলে তার পরিচিতি প্রচুর।
দ্বিতীয় স্থানে প্রার্থী হিসেবে নাম থাকছেন এখানকার বিধায়ক আশীষ কুমার বিশ্বাসের। প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ তাকে এখানে পুনরায় প্রার্থী হিসেবে চাইছে। বাকি আর কয়েকটা নাম শোনা যাচ্ছে তাতে দৌড়ে তারাও আছে।
৬) শান্তিপুর বিধানসভায় তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৮%। উপনির্বাচনে এখানে তৃণমূল ৫৪. ৮৯% ভোট পেয়েছিল।
তৃণমূলের ব্রজ কৃষ্ণ গোস্বামী ১ লক্ষ ১১ হাজার ১৮৯ ভোট পেয়েছিল ।
আর বিজেপির নিরঞ্জন বিশ্বাস পেয়েছিলেন ৪৭ হাজার ১৬৭ ভোট।
শাসক দল তৃণমূল ২০২৬-এ পুনরায় ব্রজ কৃষ্ণ গোস্বামী কে প্রার্থী করবে।
বিজেপি প্রার্থীর দৌড়ে অনেকেই আছেন। সংসদ জগন্নাথ সরকার ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর নাম প্রবলভাবে উঠে এসেছে প্রার্থীর দৌড়ে। তবে এখান থেকে নিরঞ্জন বিশ্বাসকে আর পুনরায় প্রার্থী করা হবে না এটা এক প্রকার নিশ্চিত।
৭) চাকদা বিধানসভায় বিজেপির জয় সম্ভাবনা ৬৫ শতাংশ। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে এখান থেকে বিজেপি ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। বিজেপির বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষ পেয়েছিলেন ৯৯ হাজার ৩৬৮ ভোট।
তৃণমূল এখানে ভোট পেয়েছিল ৪১%। তৃণমূলের শুভঙ্কর সিংহ ( যীশু ) তিনি ভোট পেয়েছিলেন ৮৬ হাজার ৬৬৮ ভোট।
বিজেপি প্রার্থী দৌড়ে প্রথমেই থাকছে বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষের নাম। ৬৪ শতাংশ বিজিবি কর্মী সমর্থকরা তাকেই পুনরায় প্রার্থী হিসেবে চাইছেন। বাকি দুই একজনের নাম শোনা গেলেও তারা কেউ শেষ মুহূর্তে টিকতে পারবে না।
তৃণমূল প্রার্থী দৌড়ে পুনরায় যীশুকে প্রার্থী করা হতে পারে। অভিষেক ঘনিষ্ঠ কারো নাম শোনা যাচ্ছে।
এখন দেখার বিষয় শাসক এবং বিরোধী দল কাদের কাদের প্রার্থী করে। তবে আমাদের জনমত সমীক্ষায় যে তথ্য উঠে এসেছে বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী আমরা সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরলাম।
তবে SIR হলে ও রানিং বিধায়কদের টিকিট না দিলে তখনই পরিসংখ্যান কিছুটা কর্মীল হতে পারে।
No comments:
Post a Comment